কোলকাতায় রাস্তার নামকরণ নিয়ে জাকির তালুকদারের মতের বিপরীতে ভূইয়াঁ শফিকুল ইসলামের মতামত

কোলকাতায় রাস্তার নামকরণ নিয়ে জাকির তালুকদারের মতের বিপরীতে ভূইয়াঁ শফিকুল ইসলামের মতামত

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় একটি রাস্তার নাম পাল্টানো হয়েছে। ভারতের এই কাজে বাংলাদেশের উদীচী করা লেখক জাকির তালুকদার নিন্দামন্দ করেছেন। জাকির তালুকদার একজন প্রগতিশীল বলে পরিচিত বাংলা একাডেমী পুরস্কার পাওয়া এবং তা ফেরত দেওয়া লেখক। তার রচনার একাধিক জায়গায় হিন্দুবিদ্বেষী শব্দ -বাক্য রয়েছে। তিনি 'পূজা' শব্দটিকে সবসময় খারাপ অর্থে ব্যবহার করেন। জাকির তালুকদারের মানসিকতা জানতে ও  চিনতে পড়তে পারেন 'জাকির তালুকদার সম্পর্কে কুলদা রায়', 'বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক জাকির তালুকদার মনে করেন, হিন্দু জমিদারগোষ্ঠী বাঙালি মুসলমানদের নিপীড়ণ শোষণ করেছে - কুলদা রায়' এবং 'জাকির তালুকদারের 'মুসলমানদের করুণ কাহিনী' গল্পসংকলন প্রসঙ্গে সুষুপ্ত পাঠক' লেখা তিনটি। তার মানসিকতার কুৎসিত গলি ঘুপচি সম্পর্কে সচেতন ভুইয়াঁ শফিকুল ইসলাম। তিনি এই সাম্প্রতিক ঘটনায় জাকির তালুকদারের মতের বিপরীতে নিজের মত ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। পাঠক যেন জাকির তালুকদারকে চেনে সেই উদ্দেশ্য লেখাটি প্রকাশ করা হল।



এটি বিখ্যাত গল্পকার, উপন্যাসিক ও বেশ জনপ্রিয় বুদ্ধিজীবি জাকির তালুকদারের পোস্ট। শাহেদ সারোয়ার্দীর নামে রাস্তাটি গোপাল পাঠা, তথা গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে করায় উনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।


কিন্তু আমি ক্ষুব্ধ নই। ছেচল্লিশের সেই ভয়াবহ দাঙ্গায়, 'লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান' দর্শনে বিশ্বাসী জঙ্গিরা সরোয়ার্দির ইন্ধনে যেভাবে হিন্দুদের কঁচুকাটা শুরু করেছিল তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহতম কালো অধ্যায়। সরোয়ার্দি তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তিনি এ দাঙা প্রতিরোধে প্রথমে পুলিশ মিলিটারী কিছুই পাঠান নি।


গোপাল পাঠা খ্যাত এই গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে পাল্টা মুসলমানের লাশ রাস্তায় জমা হতে থাকলে সরোয়ার্দির কানে পানি ঢোকে।


 রাস্তায় সরকারি ফোর্স নামে, দাঙা বন্ধ হয়। ততদিনে হিন্দুমানসে এমন ক্ষত জন্মে, তারা বুঝে যায়, মুসলমানের সঙ্গে একত্রে থাকা সম্ভব নয়। সরোদবসুরা বহু চেষ্টা করেও বাংলাভাগ আর ঠেকাতে পারেন নি।


হিন্দুর জাতপাত আছে, যা সংশোধনও হচ্ছে। হিন্দুর বেদান্তে জাতপাতের স্থান নেই। সকল মানুষকে পরব্রক্ষ্মার অংশ বলা হয়। হিন্দুর পুরান আর মনুসংহিতা দিন দিন তার নোংরা অবস্থান ছেড়ে দিতে বাধ্য হতো। যাক সেকথা।


কোলকাতায় হিন্দু-মুসলমান সমানে সমানে মারা পড়েছিল, কিন্তু তার জেরে নোয়াখালিতে কেন আবার দাঙ্গা? গোলাম সরোয়াররা পাঁচ হাজারের উপরে প্রতিবেশী হিন্দুকে হত্যা করেছিল, ধর্মীয় বর্বর মালে গনিমত তত্ত্বের কারণে হিন্দুর মাতা বধু কন্যারা ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পান নি।


আজ আমরা গোপালভোগ আমের নাম পাল্টানোর ফতোয়া দিচ্ছি, কালেমার পতাকা নিয়ে মিছিল করছি। জয়দেবপুরের নাম তো গাজিপুর করে ধন্য হয়েছি বহু আগে।

হিন্দু অনুরৃপ আচরন করলে, "গেল গেল" রব তোলা উচিত নয়।


মনে রাখতে হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আচরণই ভারতের সাম্প্রদায়িক চেতনাকে পরিপুষ্ট করেছে।


Link

Post a Comment

0 Comments