![]() |
| ফরিদপুরে প্রতিমা ভাঙচুর করা সোনাই মালোকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছবি: সময় সংবাদ |
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক রাতে তিনটি মন্দিরের ১০টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার চুয়াল্লিশের মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার যুবকের নাম সনাতন মালো ওরফে সোনাই মালো (৪৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের মৃত নিতাই মালোর ছেলে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহজাহান।
মো. শাহজাহান বলেন, বিষ্ণু পাগলের মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই রাতে ২টা ১৫ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করে এবং রাত ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে বের হয়ে আসে। পরে স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম পরিচয় বেরিয়ে আসে। এরপর তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সোনাই মালোকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, সনাতন মালো মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সোনাই মালো জানান, সাপ তাকে দুই বছর যাবত স্বপ্নে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাই তিনি বিভিন্ন পূজামণ্ডপে যেসব মূর্তি ও প্রতিমার সাথে শিব বা মহাদেবের মূর্তি আছে, সেগুলোর মুখমণ্ডল ভেঙে ফেলেন। কারণ শিব বা মহাদেবের গলায় সাপ জড়ানো থাকে। পাশাপাশি মূর্তির সাথে মাটির তৈরি যে সাপ থাকে সেগুলোও ভেঙে ফেলেন।
সোনাই মালো আরও জানান, বিষ্ণু পাগলের মন্দিরে রক্ষিত দূর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মীর যে প্রতিমা আছে, সেগুলো আসল না এবং তারাও সাপের রূপ ধারণ করে তাকে ভয় দেখায়। এ কারণে ওই মূর্তিগুলোর মুখ তিনি ভেঙে দেন।
এর আগে শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত কুশুমদী মহল্লার কেন্দ্রীয় হরি মন্দির, শ্রী বিষ্ণু পাগলের মন্দির এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলফাডাঙ্গা মহল্লার শ্রীশ্রী দামুদর আখড়া মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে হরি মন্দিরের দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, মনসা ও মহাদেব; বিষ্ণু পাগলের মন্দিরের মহাদেব ও মনসা এবং দামুদর আখড়া মন্দিরের মহাদেব, শিবলিঙ্গ ও নারায়ণসহ ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করা হয়।
এর আগে প্রতিবাদ জানিয়ে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন করে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সনাতনী বিভিন্ন সংগঠন। এছাড়া গত শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।















0 Comments