হরিজন সম্প্রদায়ের আলোকবর্তিকা সঞ্জয় বাসফোঁর (মাখন)- লেখালেখি ও মেধার লড়াইয়ে দেশসেরা কবি ও লেখক

হরিজন সম্প্রদায়ের আলোকবর্তিকা সঞ্জয় বাসফোঁর


​নিজস্ব প্রতিবেদক | হরিজন সারাক্ষণ। ২৫ জুন ২০২৬


​অদম্য মেধা ও শৈল্পিক সত্তার জোরে হরিজন সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন সঞ্জয় বাসফোঁর (মাখন)। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের এই তুখোড় মেধাবী শিক্ষার্থী কেবল পাঠ্যপুস্তকেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং কলমকে অস্ত্র বানিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের হৃদয়ের কথা। টানা তিনবার দেশসেরা ‘লেখক ও কবি’ হিসেবে ভূষিত হওয়া এই তরুণ আজ হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন স্বপ্নের সারথি।

সঞ্জয় বাসফোঁর (মাখন) কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রতন বাসফোঁর এবং মাতার নাম রিতা বাসফোঁর। সংগ্রামী পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। প্রতিটি সমমান পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন এ+’ অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি পড়ার সুযোগ পান দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ‘আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী’তে। সেখান থেকেও কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।

সঞ্জয়ের সাহিত্যিক যাত্রা শুরু হয় ‘অপয়া মানবী’ কবিতার মধ্য দিয়ে, যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে পুরো দেশে সাড়া ফেলে দেয়। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে— ‘যায় যাবে, যাক প্রাণ’, ‘শিখন্ডীর মান’, ‘স্বাধীন দেশের বীর জনতা’, ‘বাবা’, ‘মন্ডু মমের তাজ’ ইত্যাদি। কবিতা চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও তিনি সফল। মা দিবসসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে একুশে সংবাদ ও ঢাকা পোস্টের মতো শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টালে কলাম লিখে তিনি পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

সঞ্জয় বাসফোঁর একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন:

​শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি: বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ‘যায় যাবে, যাক প্রাণ’ কবিতার জন্য তিনি দেশসেরা তরুণ কবির সম্মাননা পান।

​সেরা লেখক ও কবি (২০২৫): দৈনিক ঐশী বাংলা পত্রিকা আয়োজিত জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনে তাঁকে ‘সেরা লেখক ও কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

​সেরা কবি: দৈনিক ইনসাফ বার্তা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ‘অপয়া মানবী’ কবিতার জন্য তিনি আবারও দেশসেরা কবির গৌরব অর্জন করেন।

শুধুমাত্র লেখালেখি নয়, শৈশব থেকেই বিতর্ক, আবৃত্তি ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি অগ্রগামী। আন্তর্জাতিক সমন্বিত গবেষণা সম্মেলন-২০২৫ এ বাংলাদেশের হরিজন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার করুণ বাস্তবতাকে তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। বহিঃবিশ্বের কাছে হরিজন সম্প্রদায়ের দুর্দশা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি আজ এক উজ্জ্বল দর্পণ।

নিজের সাফল্যের নেপথ্যে সঞ্জয় বাসফোঁর (মাখন) এক অনন্য ‘ত্রিমুখী রুদ্রাক্ষ’-এর আশীর্বাদ খুঁজে পান। তবে এই ত্রিমুখী রুদ্রাক্ষ কোনো অলৌকিক বস্তু নয়, বরং তাঁর জীবনের তিন মহীরুহ—তাঁর বাবা রতন বাসফোঁর, মা রিতা বাসফোঁর এবং শ্রদ্ধেয় কাকা যতন বাসফোঁর।

​সঞ্জয়ের ভাষায়, জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে এই তিনজনই তাঁকে সাহস, প্রেরণা ও পথনির্দেশনা দিয়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আজন্মকাল এই তিনজন মানুষের কাছে ঋণী। তাঁদের ঋণ কখনও শোধ হওয়ার নয়। আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে তাঁদের অবদান অমলিন হয়ে থাকবে।” 

পরিশেষে তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার অসীম আশীর্বাদ এবং তাঁর এই তিন অভিভাবকের স্নেহ, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনার সমন্বয়েই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। সঞ্জয়ের কাছে এই ‘ত্রিমুখী রুদ্রাক্ষ’ শুধু তিনজন মানুষ নন, বরং তাঁর জীবনের শক্তি, প্রেরণা এবং সাফল্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল ভিত্তি।

- হরিজন সারাক্ষণ


Link

Post a Comment

0 Comments