হিন্দুদের সমাজে নিকট-সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ দেখা যায় না। মামাতো-পিসতুতো ভাইবোন, মাসতুতো ভাইবোনের মধ্যে বিবাহ হিন্দুদের মধ্যে নেই, অন্ততঃ বাঙালী হিন্দু সমাজে নেই ( যতদূর জানি, বৌদ্ধ সমাজেও নেই)। বিবাহ-বিচ্ছিন্না মামী, চাচীকে বিয়ে করার কথা চিন্তা করাটাও হিন্দুরা পাপ মনে করে, কারণ তাঁরা মাতৃসমা। পুত্রবধূ এবং পালিত পুত্রের বধূ হিন্দুদের দৃষ্টিতে কণ্যা-সমতুল্যা।
হিন্দুদের সম্মানীয় ও পূজ্য মনীষীদের মধ্যে সর্বাত্মক সংযম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিবাহ না করে সন্ন্যাস-ব্রত পালন করেছেন।
হিন্দুদের সমাজে "অজাচার" একেবারেই ছিল না, তা নয়। দেবদাসী -প্রথা ছিল। সেটা অবলুপ্ত হয়েছে। দেবদাসী-প্রথা নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্যের বিরোধী হলেও অসৎ বিপ্রদের দ্বারা তা সমাজে চালু ছিল। গণিকাবৃত্তি এখনও রয়েছে। এটা সামাজিক অভিশাপ।
হিন্দুদের অজাচার-গ্রস্ত জাতি প্রমাণ করার জন্যে অনেকে হিন্দুদের পৌরাণিক কাহিনীর মধ্যে অশ্লীলতা অনুসন্ধান করেন। ব্রহ্মা, ব্রহ্ম সম্পর্কে কিছু না জানলেও তাঁরা সরস্বতীর সঙ্গে ব্রহ্মার অজাচার সম্পর্কে জানেন। বেদে সরস্বতী রয়েছে, সেটা হলো নদী সরস্বতী। ব্রহ্মার পুত্র হলো ব্রহ্মপুত্র। নদ-নদী ও উৎসের ভৌগোলিক ঘটনাকে বর্ণনা দিতে গিয়ে পৌরাণিক গল্প লেখা হয়েছে। গঙ্গানদীকে নারী বা দেবী কল্পনা করা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনীর অজাচারকে হিন্দুরা কখনও পালনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করে নি, ওগুলোকে প্রতীকী উপাখ্যান রূপেই গ্রহণ করেছে।
যে শাস্ত্র বা গ্রন্থের বিধান কোন জাতির লোকেরা নিজেরাই মানছে না, সেটা তাদের ওপর আরোপিত করে নিন্দা করা ঠিক নয়। এই ধরণের চেষ্টাকে বলা যায় Stawman Fallacy।
একই ভাবে, মুসলমানরা যদি নিজেরাই কোন হাদিস না মানে বা অগ্রাহ্য করে, তাহলে সেই হাদিসের উল্লেখ করে তাদেরকে সমালোচনা করাও ঠিক নয়।














0 Comments