বিএনপি নেতার দখলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা

ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা। ছবি: সংগৃহীত

ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা। ছবি: সংগৃহীত


মাদারীপুর প্রতিনিধি, প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৮ পিএম, আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০০ পিএম


প্রখ্যাত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম সোহেল হাওলাদার। তিনি বিএনপির ডাসার উপজেলা কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার কাজীবাকাই এলাকায়।


বর্তমানে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে কালকিনির ইউএনও উত্তম কুমার দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, 


‘সোহেল হাওলাদার নামের বিএনপির এক নেতা লেখকের ঘর দখলে নিয়ে ওএমএসের ডিলারের চাল রেখেছিলেন। আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তিনি ওই চাল সরিয়ে ফেলেছেন। ওই দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


ডাসার ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়ায় মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭ একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড। গত শনিবার দুপুরে লেখকের পৈতৃক ভিটার একটি টিনশেড ঘরের (সুনীল স্মৃতি পাঠাগার) তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার ও তার লোকজন। পরে তারা ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল রেখে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া লেখকের বাড়ির সামনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।


এ সম্পর্কে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশীদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, 


‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটার তালা ভেঙে এক ব্যক্তি দখলে নেওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা লেখকের বাড়িটি দখলমুক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’


এ বিষয়ে জানতে সোহেল হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কল ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।


এদিকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা বেদখল হওয়ায় ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। তাদের দাবি, দখলদারদের শাস্তি নিশ্চিত করে লেখকের ভিটা দখলমুক্ত করে তা সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে।


উল্লেখ্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাদারীপুর মহকুমার রাজৈরের আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার কালকিনির পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। তিনি ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।


সূত্র: সাম্প্রতিক দেশকাল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. প্রশাসন খবর প্রকাশের পর পরবর্তীতে দখল নেয়। পড়ুন

    দখলমুক্ত হলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটা

    জেলার খবর
    মাদারীপুর প্রতিনিধি
    প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম

    মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় প্রখ্যাত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটাবাড়ি দখলে নেওয়ার তিন দিন পর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে প্রশাসন। এ সময় আগের দেওয়া তালা ভেঙে নতুন করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে দখলদার বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় পুলিশ ও সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে বাড়িটি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানান কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ।

    এর আগে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেবাড়ি দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডাসার উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক সোহেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

    ডাসার ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয়রা জানান, কালকিনি উপজেলা ভেঙে নবগঠিত ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাত একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে দুই একর ৯৭ শতাংশ জমি সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড।

    শনিবার দুপুরে লেখকের পৈতৃক ভিটার একটি টিনশেড ঘরের (সুনীল স্মৃতি পাঠাগার) তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার ও তার লোকজন। পরে তারা লেখকের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, বই, আসবাব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ একাধিক ছবি ভাঙচুর করেন। এরপর তারা ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল রেখে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া লেখকের বাড়ির সামনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।

    এ নিয়ে সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জেলার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। পরে সোমবার রাতে জেলা প্রশাসন থেকে লেখকের বাড়িটি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের নিয়ে লেখকের বাড়ি পরিদর্শনে যান ইউএনও উত্তম কুমার দাশ। এসময় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা ইসলাম, ডাসার থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম এবং কাজীবাকাই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও উত্তম কুমার দাশ বলেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা ও জমি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে প্রশাসন। লেখকের ঘরে নতুন তালা লাগানো হয়েছে। এই জমিতে অনুমতি ছাড়া কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে এখনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

    উত্তরমুছুন