ব্রহ্মাণ্ড শব্দের অর্থ কি? একেবারে শাব্দিক অর্থ।

আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক অন্য একজন মুসলিম টিচারকে বলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বলা যাবেনা। কারণ ব্রহ্মের অন্ড মানে ব্রহ্মাণ্ড। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ব্রহ্মের অন্ড থেকে তৈরি। তখন উত্তর দিতে পারিনি। 


আসলে কি তাই..??


মতামত:---


# আপনার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ পড়ার জন্য বলবেন। শব্দটি আমাদের বাংলা অভিধানে রয়েছে (পৃষ্ঠা: ১০২৯; আইএসবিএন: ৯৮৪-০৭-৫৪৯৪-৭)। তাহলে কেন বলা যাবে না? 


এবার স্যারের সংশয় মীমাংসা করি। স্যার সম্ভবত গর্দভ জাকির নায়েকের ফলোয়ার। এজন্য অণ্ড অর্থ ‘অণ্ডকোষের বিচি’ বুঝেছেন, কিন্তু অণ্ড শব্দের বহু অর্থ রয়েছে, এর মধ্যে একটি হলো ‘গোলাকার বস্তু’। আমরা যদি ব্রহ্মাণ্ড শব্দের বুৎপত্তি দেখি, তাহলে দেখব যে, এই শব্দটি সংস্কৃত ‘ব্রহ্মন্+অণ্ড’ এই দুই শব্দ মিলে গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ড শব্দের অর্থ হয় ‘ব্রহ্ম কর্তৃক সৃষ্ট গোলাকার বস্তু’, অর্থাৎ বিশ্বজগৎ বা মহাবিশ্ব। কিন্তু এটি কখনোই ব্রহ্মের অণ্ডকোষের বিচি হবে না। কেননা, ব্রহ্ম সর্বব্যাপক, নিরাকার। যাঁর কোনো আকার নাই, তাঁর অণ্ডকোষের বিচি আসবে কোথা থেকে?


[বি: দ্র: ‘ব্রহ্ম নিরাকার, তাঁর আকার নাই’-এই বিষয়ে কিছু রেফারেন্স নিচে দেওয়া হলো। অণ্ড শব্দের বিবিধ অর্থ হতে পারে তা রিপ্লাইয়ে বাংলা অভিধানের ছবি দেওয়া হলো।]


[ব্রহ্ম নিরাকার: ব্রহ্মসূত্র: ৩|২|১৪, মুণ্ডক উপনিষদ্: ২|১|২), কেন উপনিষদ্: ১|৩, কঠ উপনিষদ্: ১|২|২২, প্রশ্ন উপনিষদ্: ৪|১০, শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্: ৫|১৪, তৈত্তিরীয় উপনিষদ্: ২|৭|২), ইত্যাদি।]



# ব্রহ্ম শব্দের অনেক অর্থ, তার মধ্যে একটি হচ্ছে "বৃহৎ/ বড়"। অণ্ড শব্দের এক অর্থ অর্থ "ডিমের মতো গোলাকার পদার্থ"। এই মহাবিশ্বকে বৃহৎ গোলাকার বস্তুরূপে বলা হয়েছে, তাই এর নাম ব্রহ্মাণ্ড। এই ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি হয়েছে হিরণ্যগর্ভ বা হিরণ্যাণ্ড (মূল-প্রকৃতির সূক্ষ্ম বিকার) থেকে। পূর্বরূপ হিরণ্যাণ্ড, আর বর্তমান রূপ ব্রহ্মাণ্ড। অর্থাৎ প্রকৃতি সূক্ষ্ম দশা থেকে স্থূল দশায় রূপান্তরিত হয়েছে। যাকে আমরা জগৎ বা ব্রহ্মাণ্ড বলি। ব্রহ্মাণ্ড শব্দের দ্বারা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকে বুঝায়। মূর্খরা একে ব্রহ্মার অণ্ডকোষের সাথে তুলনা করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ