“মৌলবাদের চাষ“ - তিথি সরকার

বাংলাদেশে ৯৫% মুসলিম পরিবারেই মৌলবাদের চাষ হয়। বিশ্বাস না হলে তাকিয়ে দেখুন নিজের পরিবারে।কখন, কিভাবে যেনো পরিবারের মেয়েদের পোষাক বদলে গিয়েছে। তাদেরকে কিন্তু কেউ ফোর্স করেনি।তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই পোষাক বদলেছে। পোষাক বদলানোর সাথে সাথে বদলেছে মুখের বুলি। কথায় কথায় যাযাকাল্লা খায়রান, আলহামদুলিল্লাহ্, মাশাল্লাহ্ বলা শুরু হয়েছে, যা কিনা আমাদের বাপ-দাদাদের কখনো বলতে শুনিনি।


             বাংলাদেশ ধীরে ধীরে হারিয়েছে তার শ্যামল ললিত লাবণ্য। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটেছে আরব/আফগানদের রুক্ষতা আর অশিক্ষা।


বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবারে এক দুইটা করে রাজাকার, মৌলবাদী ভাবাপন্ন মানুষ আছে এ আমি হলফ করে বলতে পারি। এদের চিন্তাধারা যে কি ভয়ঙ্কর তা একজন পরিবারের সদস্য হয়ে আপনারা নিশ্চয় জানেন। কিন্তু,কখনো নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে বদলাননি। চেষ্টাও করেননি। অথচ ফেসবুকে এসে ঠিকই অসাম্প্রদায়িক চেতনার লেকচার মেরে যাচ্ছেন। যখন আপনারা নিজের পরিবারের ভিতর থেকে মৌলবাদির শিকড় কাটতে পারেন না, আপনি দেশ বদলাবেন কিভাবে? সমাজ বদলাবেন কিভাবে? 


কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত বেশিরভাগ পরিবারের বাবা-মায়েরা স্বপ্ন দেখে পরিবারের একটা সন্তানকে অন্ততঃ মাদ্রাসায় পড়াতে। যাতে করে তার লেন্জা ধরে সহজে বেহেস্তে যাওয়া যায়। স্কুল থেকে আরম্ভ করে উচ্চ শিক্ষার সব জায়গায় মেয়েদের দেখেন, কি দ্রুত তাদের পোষাকের পরিবর্তন ঘটেছে। বিয়ের কনে দেখেন, কি ধরণের পোষাক পরে তারা। এগুলোতো একদিনে ঘটেনি। বহুদিন ধরে স্লো পয়জন দেয়া হচ্ছে বাংলার অশিক্ষিত মুসলিমদের। মুসলিমরা যত বড় শিক্ষিত হোক না কেনো, আদতেই তারা গন্ডমূর্খ। এটা কেউ স্বীকার করুক বা না করুক তাতে কিছু আসে যায় না।


বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র করুক বা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র করুক, তাতে কিছুই আসবে যাবে না। ৭২ এর সংবিধান যখন ছিল, তখন কি সাম্প্রদায়িকতা ছিল না? সাম্প্রদায়িকতা কি হঠাৎ করেই গজিয়ে উঠেছে? না, আপনার/আমার পরিবারের মধ্যেই আমরা ধীরে ধীরে তার চাষ করেছি। সন্তানকে কেউ মানুষ বানাতে চাইনি, চেয়েছি ধর্মীয় পরিচয়ে বড় করতে। সন্তানকে কখনো বলিনি 


“মানবিক মানুষ হও। বলেছি আগে বাড়ো, সেটা কাউকে মেরে কেটে হলেও। এইযে দিনের পর দিন, এই পরিবর্তনগুলো আপনারা চোখে দেখেননি?


               এই ফেসবুকেই অনেক আধুনিক মনস্ক বন্ধু আছেন, যারা নিজেদেরকে অসাম্প্রদায়িক বলে দাবি করেন, তাদের পরিবারের ভিতরে মহিলাদের পোষাক আশাক আর মুখের ভাষার পরিবর্তন কি তারা টের পান না? তারা কি চেষ্টা করেছেন কখনো নিজের পরিবারকে বাঙ্গালী সংস্কৃতি ধারণ করাতে?


            হয়তো অনেকেই বলবেন, পোষাকের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কি সম্পর্ক? হা জনাব ,সম্পর্ক আছে।খুব গভীরভাবে খেয়াল করবেন, যখনই কোনো মানুষ হঠাৎ করে ধর্মীয় লেবাস ধরে এবং ধর্মীয় ভাষায় কথা বলে, তখনই তাদের হাবভাব বদলে যায়। কথায় কথায় তারা অন্যকে নসিহত দেবার জন্য উদগ্রীব থাকে। আর, নিজেরে মনে করে বেহেস্তের ঠিকাদারি পেয়ে গিয়েছে। আর সেই মনোভাব থেকেই তারা ধীরেধীরে মানুষ থেকে মৌলবাদে পরিণত হয়।

সাহস থাকলে আর যদি সত্যি নিজেকে অসাম্প্রদায়িক মনে করে থাকেন, লোকদেখানো না, তবে পরিবর্তনটা শুরু করেন নিজ ঘর থেকে। চ্যারিটি বিগেনস এট হোম। না পারলে, ঘরে বসে নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে থাকেন নিজের অক্ষমতার জন্য। ফেসবুকে এসে লোকদেখানো অসাম্প্রদায়িকতার মুখস্থ বুলি আওড়াবেন না। তাতে, আমাদের জন্য আরও দূরহ হয়ে যায় মানুষ চেনা।


লেখাঃ তিথি সরকার


লিংক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ