নিচের লেখাটি লিখেছেন Sonam Saha
(আমারও একই কথা। বন্ধ করে দিক না সব। অত দয়া দেখানোর কী আছে? একবার, মাত্র একটিবার যদি দেশের মেরুদণ্ডহীন সনাতনধর্মী নেতারা পূজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতো, তাহলেই হতো! )
"দুর্গা পূজার সন্ধ্যা আরতির সময় হলো সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে আটটা। অষ্টমীর দিন সন্ধ্যা আরতির পরে রাত আটটা ছয় মিনিট থেকে শুরু হবে সন্ধি পূজা। আরতি ঢাক, কাঁসা, শঙ্খ বাজিয়ে করা হয়, এটাই রীতি। এইসব বাদ্য বাঙালি বাজায় কমের মাঝেও পাঁচ হাজার বছর ধরে৷ বাংলা ব্যাকরণ বইটা খুলেন, দেখবেন, খাঁটি বাংলা শব্দের তালিকায় আছে: ঢাক আর ঢোল।
কিন্তু আপনারা যেহেতু বলেছেন, তাহলে আর বাজাবো না কোন বাদ্য। আরতি হবে আপনাদের দয়া করে দেয়া সময়ে, যদি সেটুকুও না দেন, তবে বন্ধ করে দেবো সব। যখন বলবেন তখন পূজা শুরু হবে, যখন চাইবেন তখন শেষ হবে। যা নিদান দেবেন তাই খাবো, যা বারণ করে দেবেন তা ছুঁয়েও দেখবো না। গোটা এক বছরের প্রতীক্ষার উৎসবে মোটে তিনদিনের সন্ধ্যা আরতি, আপনাদের যদি তাও সহ্য না হয়, তবে ঘুণাক্ষর দু:সাহস করবো না।
শাস্ত্রের চেয়ে সংখ্যা বড়, এই সবক তো আপনারা প্রতি বছর দেন৷ আপনাদের কথার উপর কথা বলবো না৷ আপনারা এদেশে দয়া করে থাকতে দেন, তাই থাকি। আপনারা দয়া করে খেতে দেন, তাই খাই৷ আপনারা কখন পেলব কোমল পায়ে লাথিটি মারবেন, সেই অপেক্ষায় পিঠটি পেতে দিয়ে দিন কাটাই৷ আপনাদের এই অশেষ সম্প্রীতির ডালা কোথায় যে রাখবো, তাও তো ভেবে পাই না। যে দেশকে নিজের বলে জানি, সে দেশে আপনাদের মতে আমাদের মোটে একটি পা আছে, আরেকটি পা যেখানে আছে বলে আপনাদের ধারণা, সেটা আমাদের দেশ নয়।
তবু আপনাদের কথাই শেষ কথা। আমরা সংখ্যায় শতে মোটে ৮ জন, আমাদের ঘাড়ে মাথা একটা করেই৷ আপনাদেরকে রাগিয়ে দিয়ে পরে যদি সে মাথাখানাও খুইয়ে ফেলি, তখন তো আবার বলবেন, "এই মাথা সহি মাথা না!"
0 মন্তব্যসমূহ